
বাংলাদেশে দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে হলে প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু পদ সৃষ্টি করে কিংবা কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসিয়ে দেশ পরিচালনা করা যায় না। প্রয়োজন এমন প্রশাসক, যাঁরা সৎ, সাহসী, কর্মঠ, দক্ষ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মতো ব্যক্তিদের উদাহরণ সামনে রেখে সারাদেশে যোগ্য ও সাহসী প্রশাসক বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সরকারের প্রতি আমাদের স্পষ্ট আহ্বান- প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দুর্নীতি, ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন। জেলা থেকে মহানগর, উপজেলা থেকে স্থানীয় সরকার- প্রতিটি স্তরে যোগ্যতা, সততা, কর্মদক্ষতা ও সাহসিকতার ভিত্তিতে কর্মকর্তা নির্বাচন করুন। প্রশাসনিক পদ কোনো ব্যক্তির সুবিধা ভোগের জায়গা নয়; এটি জনগণের সেবা ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ব্যক্তিদের শুধু পদ আঁকড়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হবে, আর দুর্নীতিবাজ চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
তবে মনে রাখতে হবে, শুধু সৎ হলেই চলবে না; হতে হবে কর্মতৎপর, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে সৎ বলে পরিচিত হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়। তাঁদের চোখের সামনে অবৈধ দখল, ঘুষ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলতে থাকলেও তাঁরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। এই নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা ও সাহস থাকা সত্ত্বেও নীরব থাকা মানে দায়িত্বের সঙ্গে আপস করা। প্রশাসকের সততা তখনই অর্থবহ, যখন তা জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রতিফলিত হয়।
আমাদের দেশে সৎ, দক্ষ ও সাহসী মানুষের অভাব নেই। কিন্তু স্বজনপ্রীতি, দলীয় বিবেচনা, তদবির এবং দুর্নীতির প্রভাব অনেক যোগ্য ব্যক্তির সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই সরকারকে স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের অতীত কর্মরেকর্ড, সম্পদের বিবরণ, পেশাগত দক্ষতা, সততা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনা করে নিয়োগ ও পদায়ন করতে হবে
সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলনের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ চুঁড়ে দেয়া ব্যক্তিদের উদাহরণ সামনে রেখে সরকারকে সৎ ও কর্মদক্ষ প্রশাসক চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
এখন আর লোকদেখানো সততার প্রচার নয়, চাই কাজে প্রমাণিত সততা। চাই এমন প্রশাসন, যেখানে অবৈধ দখলদার, ঘুষখোর, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের কোনো প্রশ্রয় থাকবে না। সরকার যদি সত্যিই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়, তাহলে অবিলম্বে সারাদেশে সৎ, সাহসী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি কাগজেই থেকে যাবে, আর সাধারণ মানুষকে ভুগতে হবে সেই পুরোনো অনিয়মের বোঝা।
লেখক,
মো: কামাল উদ্দিন হাওলাদার
সাবেক সভাপতি
লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব।























