
স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে যাত্রীবেশে প্রতারণার মাধ্যমে ইজিবাইক চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় চুরি হওয়া ইজিবাইকটি কুমিল্লার মেঘনা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার পল্লবী এলাকার নাজমুল ইসলাম (২৯), নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার আব্দুর রহিম (৩৫) এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার মো. রিপন (৩২)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকায় মাছুম ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে ইজিবাইকচালক ফাহিম হোসেনের (২০) গাড়িটি প্রতারণার মাধ্যমে চুরি করে নিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।
চুরির কৌশল হিসেবে চক্রের একজন সদস্য যাত্রীবেশে ইজিবাইকে ওঠেন। পরে আরেকজনকে সহযাত্রী হিসেবে গাড়িতে তোলা হয়। একপর্যায়ে প্রথম যাত্রী বাসা থেকে চাবি আনার কথা বলে গাড়ি থেকে নেমে যান। পরে চক্রের আরেক সদস্য চালককে ওই যাত্রীর খোঁজ নিতে পাঠান। এ সুযোগে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা চক্রের অপর সদস্য ইজিবাইকটি চালিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আবু তারেক এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর রাত ১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল ৭টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার মেঘনা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোরচক্রের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটি বিভিন্ন জেলায় প্রাইভেটকার নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইজিবাইকচালকদের লক্ষ্যবস্তু বানাত। চক্রের সদস্যরা আলাদা আলাদা দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁদের কেউ যাত্রীবেশে ইজিবাইকে উঠতেন, কেউ অপেক্ষমাণ যাত্রীর ভূমিকা পালন করতেন, আবার কেউ সুযোগ বুঝে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যেতেন। অন্য সদস্যরা চোরাই ইজিবাইক এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থানান্তর ও বিক্রির কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে নুর ইসলাম ও হাসানসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের পরিচয় যাচাই, শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।























