
স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ, কৃষিজমি ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
এ বিষয়ে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এমপির কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠিয়েছেন। গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে দুই উপজেলার কৃষিজমি, জনস্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কৃষিজমি এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু এলাকার কয়েকটি অসাধু ব্যক্তি প্রচলিত আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কৃষিজমির উর্বর মাটি অপসারণের ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষণকারী উপাদানের কারণে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কৃষি, পরিবেশ ও জলবায়ুসহিষ্ণু উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংসদ সদস্যের চিঠিতে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় পরিবহন এবং ইটভাটার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত মালামাল বহনকারী ট্রাক, ট্রলি ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের চলাচলে এলাকার গ্রামীণ সড়কসমূহের স্থায়িত্ব ও চলাচলের উপযোগিতা নষ্ট হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।
চিঠিতে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার অবৈধ ইটভাটাগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়।
এ ছাড়া কৃষিজমি, কৃষকের স্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও এলাকার গ্রামীণ সড়কসমূহ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য পরিবেশমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।























