
অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে পুলিশ সদস্যদের রাতের বেলায় একা চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ কেবল একটি অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সতর্কতা নয়; এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের সক্ষমতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে আত্মসমালোচনার দাবি রাখে। অপরাধীর হাতে পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হবেন, আর নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে দলবদ্ধ হয়ে চলতে হবে- এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই একটি কার্যকর রাষ্ট্রের স্বাভাবিক চিত্র হতে পারে না।
খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরের খানজাহান আলী রোডে খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম। রূপসা উপজেলায় বিশেষ অভিযান শেষে ফেরি পার হয়ে রিকশায় করে ফেরার পথে তিন ছিনতাইকারী তাঁর গতিরোধ করে। তাঁর মুঠোফোন ও ওয়ালেট ছিনিয়ে নেওয়ার পর বাধার মুখে তাঁর দুই হাতের কবজিতে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত এই পুলিশ কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা নিছক একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি অপরাধ দমনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তিনিই যদি নগরের সড়কে অপরাধীদের হামলার শিকার হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে যান, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অবস্থা কী- সেই প্রশ্ন সামনে আসা স্বাভাবিক। পুলিশ সদস্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া মানে শুধু একজন সরকারি কর্মচারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সক্ষমতা, অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধ সরাসরি জড়িত।
খুলনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত দাপ্তরিক নির্দেশনায় রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা এলাকায় চলমান বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনার উদ্দেশ্য পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকও জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষে কোনো সদস্য যেন ছিনতাইকারীদের কবলে না পড়েন, সে জন্যই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন নির্দেশনা দেওয়া অযৌক্তিক নয়। বরং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ প্রশাসনের কর্তব্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে বাহিনী সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব পালন করে, সেই বাহিনীর সদস্যদেরই যদি অপরাধীদের ভয়ে একা চলাচল থেকে বিরত থাকতে হয়, তাহলে অপরাধ দমনে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নির্দেশনাকে বিচ্ছিন্নভাবে বিচার করলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যাবে না। খুলনায় সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড, সশস্ত্র হামলা, ছিনতাই এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা- সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। গত সোমবার রূপসায় ছেলে জয় ঢালী হত্যার দেড় মাস পর তাঁর বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা এবং দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা এলাকায় চায়ের দোকানে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এসব ঘটনা অপরাধের ধরন, অপরাধীদের সাহস এবং জননিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই স্বাভাবিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অপরাধীরা যদি মনে করে, পুলিশকে আক্রমণ করেও তারা সহজে পার পেয়ে যেতে পারে, তাহলে তা ভবিষ্যতে আরও গুরুতর অপরাধে উৎসাহ জোগাতে পারে। এই প্রবণতা রোধে অপরাধের দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের শনাক্তকরণ, গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, দায়িত্ব পালনে বাধা, আইন প্রয়োগের সময় অযাচিত সংঘাত এবং অপরাধীদের বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ জনপরিসরে আলোচিত হচ্ছে। তবে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে প্রশ্ন বা তর্ক করলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না। নাগরিকের আইনসম্মত প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যদি পুলিশের কাজে বাধা দেয়, হামলা চালায়, অস্ত্র প্রদর্শন করে কিংবা আইন অমান্য করে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
পুলিশকে তার দায়িত্ব পালনে কার্যকর, দৃঢ় ও আপসহীন হতে হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক প্রভাব, সামাজিক অবস্থান কিংবা কোনো মহলের আশ্রয়- কোনোটিই যেন আইনের প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে হবে। একইভাবে নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানি করা, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা আইনবহির্ভূত আচরণের দায়ে কোনো পুলিশ সদস্যকেও ছাড় দেওয়া যাবে না।
কারণ, কঠোর পুলিশিং আর স্বেচ্ছাচারিতা এক বিষয় নয়। কঠোরতা মানে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তা। আর স্বেচ্ছাচারিতা হলো আইনকে উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার। একটি সভ্য রাষ্ট্রে প্রথমটি অপরিহার্য, দ্বিতীয়টি অগ্রহণযোগ্য।
পুলিশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা করতে হলে পুলিশকে কার্যকর হতে হবে। কিন্তু সেই শ্রদ্ধা ভয়ভীতি কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী করা যায় না। স্থায়ী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, অপরাধের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাফল্য এবং জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে।
সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো অপরাধী যেন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে, অস্ত্র দেখিয়ে কিংবা দলবদ্ধ শক্তি প্রদর্শন করে আইনের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ না পায়। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে তাদের অপরাধ প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে পুলিশের সঙ্গে কারও বিরোধ হলেই তাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া কিংবা বিনা প্রমাণে গ্রেপ্তার করা চলবে না। রাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের অর্থ নির্বিচার দমন-পীড়ন নয়; রাষ্ট্রের শক্তির প্রকৃত পরিচয় হলো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত রাখা।
খুলনায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে- এটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু অভিযান শুরু করাই যথেষ্ট নয়। অভিযানের ফলাফল কী, কতজন চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার হলো, অবৈধ অস্ত্র কতটা উদ্ধার করা গেল, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলার রহস্য কতটা উদ্ঘাটিত হলো- এসব প্রশ্নের জবাব থাকতে হবে।
আমাদের প্রত্যাশা, খুলনা জেলা পুলিশ কেবল সাময়িক তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। ছিনতাইকারী ও সশস্ত্র অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। অবৈধ অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী এবং ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব এলাকায় হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকায় অপরাধের নেপথ্যে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে।
প্রয়োজনে বিশেষায়িত ইউনিটের সহায়তা নিয়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে। তবে অভিযান হতে হবে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং আইনসম্মত। নির্বিচার গ্রেপ্তার, নিরীহ মানুষকে হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে বিশেষ অভিযান ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না। অভিযানের সাফল্য নির্ধারিত হবে অপরাধ কমানো, অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে- গ্রেপ্তারের সংখ্যার প্রচার দিয়ে নয়।
একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন, দলগত চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে সহায়তা, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা এবং আহত সদস্যদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালন শেষে একজন পুলিশ সদস্য নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন না- এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু অস্ত্র, জনবল কিংবা বিশেষ ক্ষমতা বাড়ালেই চলবে না। বাহিনীর ভেতরের দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং প্রভাবশালীদের অন্যায় তদবিরের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধীকে আশ্রয় দিলে, অর্থের বিনিময়ে মামলা দুর্বল করলে কিংবা অপরাধ দমনে ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের দায় আড়াল করা যাবে না। বরং স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃশ্যমান জবাবদিহির মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে, এই বাহিনীতে অপরাধের প্রশ্রয় নেই। জনগণ পুলিশের পাশে দাঁড়াবে তখনই, যখন তারা দেখবে পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় আন্তরিক এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীন।
পাশাপাশি পুলিশের কাজের পরিবেশ, প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। অপরাধীরা যদি আধুনিক অস্ত্র, যোগাযোগব্যবস্থা ও সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, তাহলে পুলিশকে পুরোনো পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। অপরাধ দমনে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, অপরাধীরা কেন এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে? অপরাধের বিচার বিলম্বিত হচ্ছে কি না, অপরাধীরা রাজনৈতিক বা সামাজিক আশ্রয় পাচ্ছে কি না, পুলিশের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে কি না, কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ দমনে সমন্বয়ের অভাব আছে কি না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত না করে শুধু কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেওয়া কিংবা সাময়িক অভিযান পরিচালনা করলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।
খুলনার পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশকে তাই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনারও একটি উপলক্ষ। তবে এই নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে পুরো পুলিশ বাহিনী অক্ষম হয়ে পড়েছে- এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো ঠিক হবে না। বরং এটি যে নিরাপত্তাঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের দায়িত্ব হলো পুলিশকে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা, জনবল, সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া; অপরাধীদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে আইন প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা; এবং বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে জবাবদিহির আওতায় রাখা। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও আইন মেনে চলতে হবে এবং অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং অপরাধীদের দৌরাত্ম্যকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খুলনার পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব যেন আইনের পথে বাধা না হয়।
পুলিশকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে- দৃঢ়তা, পেশাদারিত্ব ও আইনের প্রতি অবিচল আনুগত্য নিয়ে। সরকারকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তবে পুলিশের শক্তি হবে আইনের শক্তি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধের শক্তি নয়।
রাষ্ট্রের রাস্তায় অপরাধী নির্ভয়ে চলবে আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার শঙ্কায় একা চলতে পারবেন না- এ চিত্র বদলাতেই হবে। নাগরিকের নিরাপত্তা, পুলিশের মর্যাদা এবং আইনের শাসন- এই তিনটি বিষয়কে একই সূত্রে গেঁথে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ অভিযান হোক অপরাধ দমনের সূচনা, সাময়িক প্রদর্শনী নয়। অপরাধীদের জন্য রাষ্ট্রের বার্তা হতে হবে সুস্পষ্ট: আইন অমান্য করে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কিংবা পুলিশকে আক্রমণ করে পার পাওয়ার দিন শেষ করতে হবে। অপরাধের বিচার হবে আইনের পথেই, আর রাষ্ট্র তার নাগরিক ও আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
লেখক,
মোঃ কামাল উদ্দিন হাওলাদার
সাবেক সভাপতি
লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব।























