
অনলাইন ডেস্ক: আবাসিক হোটেলের টয়লেটে গ্যাসের চুলা বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল ‘খাঁটি মধু’। দুই কেজি আসল মধুর সঙ্গে ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে ১২ কেজি ভেজাল মধু তৈরি করে বাজারজাত করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফেনী শহরের বড় মসজিদ রোডের ‘হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিক’-এর ছয়তলার একটি কক্ষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), মেহেদী হাসান (৪০), মোহাম্মদ রাসেল (৩৮) ও জসিম উদ্দিন (৪০)। তাঁদের সবার বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোটেলটির একটি কক্ষের টয়লেটে গ্যাসের চুলা বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিনি জ্বাল দিয়ে ভেজাল মধু তৈরি করে আসছিল একটি চক্র। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চিনি মিশিয়ে ভেজাল মধু তৈরির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মহসিন জানান, বাজারে ভালো মানের খাঁটি মধুর দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি। সাধারণ ক্রেতাদের কম দামে মধু কেনার আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা ভেজাল মধু তৈরি ও বিক্রি করতেন।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন দুই কেজি আসল মধুর সঙ্গে ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে মোট ১২ কেজি মিশ্রণ তৈরি করা হতো। এতে তাঁদের খরচ পড়ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। পরে বোতলজাত করে ‘খাঁটি মধু’ নামে তা বাজারে প্রায় ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে মহসিন আরও দাবি করেন, তাঁদের চক্রে মোট ৩৮ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকায় এবং বাকি ১৪ জন ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে তৈরি করা ভেজাল মধু বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। তবে চক্রের সদস্যসংখ্যা ও তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিকের ব্যবস্থাপক রুস্তম আলী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় আট বছর ধরে হোটেলটিতে নিয়মিত যাতায়াত ও অবস্থান করতেন। তাঁদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে জানলেও ব্যবসার ধরন সম্পর্কে তাঁরা খোঁজ নেননি। তাঁদের আচরণেও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি। হোটেলের টয়লেটের ভেতরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছিল, তা কর্তৃপক্ষের কেউ জানতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর নবী জীবন বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিনি জ্বাল দিয়ে মধু তৈরি এবং তা খাঁটি মধু হিসেবে বিক্রি করা সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ ধরনের পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অভিযান পরিচালনাকারী ফেনী মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ সবুজ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চিনি মিশিয়ে ভেজাল মধু তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, ভেজাল মধু উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পরিধি নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের ফলাফল এখন গুরুত্বপূর্ণ।























